1. dailybanglardhumketu@gmail.com : Mirajul2022 :
একজন বন্ধুভাবাপন্ন শিক্ষিকার কথার ফুলঝুরি - Banglar Dhumketu
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

একজন বন্ধুভাবাপন্ন শিক্ষিকার কথার ফুলঝুরি

  • প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৭৩ বার দেখা হয়েছে
একজন বন্ধুভাবাপন্ন শিক্ষিকার কথার ফুলঝুরি

মোঃ হিমায়েত মোল্যা ::

দৈনিক বাংলার ধূমকেতুঃ

আসসালামু আলাইকুম ম্যাম।
আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন?

বেনজির রহমান সাফাঃ

আমি বেনজির রহমান সাফা। ১৯৮৭ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছি।আমার বেড়ে উঠা ঢাকায়। আমিসহ আমার পরিবার শহরকেন্দ্রিক। আমার গর্বিত বাবা এবং গর্বিত স্বামী ঢাকা শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং আমার গর্বিত মা একজন হোম মেকার।


আরো পড়ুন: কুসুম গরম পানিতেই সারবে অনেক রোগ
আরো পড়ুন: পিঠের যত্নে অয়েল থেরাপি


আমি ২০১৪ থেকে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ডিপার্টমেন্টের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছি।এছাড়া বিভিন্ন ক্লাব ও স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সাথে জড়িত আছি।আমি ঢাবি থেকে ব্যাংকিং বিভাগের প্রথম ব্যাচ হিসেবে বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছি।

এমবিএতে ডিনস এ্যাওয়ার্ড,ডিনস অনার,ডিনস মেরিট এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছি।তাঁরপর এমবিএ শেষ হতে না হতেই নর্দানের প্রভাষক পদে যোগদান করি।

সত্যিকার অর্থে আমি গর্বিত যে,আমি মানুষ গড়ার একজন কারিগর। আমি ছাত্রছাত্রীদের মনে যেই স্থান,সম্মান-ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছি এটা অনেক বড় পাওয়া। ব্যক্তিগতজীবনে এক সন্তানের জননী হলেও প্রকৃতপক্ষে অসংখ্য স্টুডেন্টসের মা।

আমার ১৮টি রিসার্চ পেপার/আর্টিকেল বিভিন্ন দেশি/বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং ১১টি কনফারেন্স পেপার প্রেজেন্ট করেছি। ২০১৪সাল থেকে পর্যন্ত ইংলিশ পত্রিকা “New Nation” সহ কয়েকটি পত্রিকায় লেখালেখি করেছি। বিভিন্ন ছোটখাটো মিডিয়া,ওয়েবমিনারে সঞ্চালক ও স্পীকার হিসেবে গিয়েছি।

দৈনিক বাংলার ধূমকেতুঃ

আপনার ভালো লাগার দিকটি বলুন?

বেনজির রহমান সাফাঃ

আমার সবচেয়ে ভালো লাগে স্টুডেন্টসদের সাথে ক্লাব-কালচারাল এক্টিভিটিসের পার্ট হওয়া।তাঁদেরকে ছোট থেকেই বেড়ে উঠতে দেখা এবং আমার সামনে এক্সট্রা কারিকুলার একটিভিস করলে,লেখাপড়ায় ইনোভেটিভ কাজ করলে আমার ভালো লাগে।

বিজনেস ডিপার্টমেন্টের প্রেজেন্টেশনের সময় শিক্ষার্থীদের রোল প্লে,পোস্টার প্রেজেন্টেশন আমাকে ও শিক্ষার্থীদের অনেক কিছু শেখায়। গান শুনতে আমার ভালো লাগে। আরো ভালো লাগে থ্রিলার সাসপেনশন নোবেল ও মুভিগুলো।বই পড়তে প্রচন্ড ভালোবাসি।

দৈনিক বাংলার ধূমকেতুঃ

বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থার কোন উন্নতি লক্ষ্য করেন নি?

বেনজির রহমান সাফাঃ

গত ২০ বছরে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এবং অনেক ভালো-ভালো দিক উন্মোচিত হয়েছে। এই করোনাকালীন বিপর্যয়ে গত বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৫টি সেমিস্টার অনলাইনে শেষ করতে যাচ্ছি।

এটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অনেক বড় অর্জন।এজন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই৷ দেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করে স্টুডেন্টস এর জন্য scope তৈরি করে অনলাইনে শিক্ষকতার সুযোগ বৃদ্ধি করে দিয়েছে। এই ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের IT Infrastructure এমনভাবে সাপোর্ট দিয়েছে যেটি আসলেই প্রশংসনীয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনেক আগে থেকেই অনলাইনে চলে এসেছে। করোনার শুরুতে আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম;আমরা মনে করেছিলাম আমাদের বাচ্চারা সেশনজটে পড়ে যাবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পতিত হবে কিন্তু সেটি হয় নি।

গত বছরের ১৮ তারিখে প্রথম লকডাউন দেয় এবং ২৭থেকে অনলাইন ক্লাসে চলে আসি।প্রথম-প্রথম বাধার সম্মুখীন হলেও বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্টের সহায়তায় খুব সুন্দরভাবে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও ক্লাস নিতে পেরেছি।

একটি দেশে শিক্ষিতের সংখ্যা যতো বৃদ্ধি পাবে তাঁর শক্তিও ততো বৃদ্ধি পাবে। উদাহরনস্বরূপ আজ আমি নর্দানের সহকারী অধ্যাপক; এটি আমার একটি আইডেন্টিটি। আমাকে কিন্তু বাবা/স্বামীর সাপোর্ট দরকার হলেও তাঁদের আইডেন্টিটির পরিচয় দিতে হয় না। শিক্ষা মানে একাডেমিক জ্ঞানার্জন নয়,শিক্ষা মানে নিজেকে skill/develop করে গড়ে তোলা।অনেক বাবা-মা বলে আমার সন্তান পুলিশ/ আর্মি/ গোয়েন্দা/ ডাক্তার/ ব্যাংকার অফিসার হবে কিন্তু ঐ পেশায় সন্তান ভালো নাও করতে পারে।

তাই সন্তানকে সুযোগ দেওয়া উচিত নিজেকে এক্সপ্লোর করার জন্য। একজন শিক্ষার্থী নিজের ভালো দিক খুঁজে নিজেকে যতো বেশি শাণিত করতে পারবে,দেশের জন্য সে ততোবেশি কাজ করতে পারবে।
বিজনেসের ভাষায়,
“You have to make yourself perfect for the market.”
অর্থাৎ মার্কেটে নিজেকে সেল করতে হলে সফল,ভালে, ফ্রেশ প্রোডাক্টস হিসেবে নিজেকে তৈরি করে বের করতে হবে। দেশের উন্নয়নে শিক্ষার অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে।

দৈনিক বাংলার ধূমকেতুঃ

পরিশেষে কিছু বলতে চান কিনা?

বেনজির রহমান সাফাঃ

আমার ক্ষেত্র,যোগ্যতা,মানুষের জন্য কিছু করার জায়গা স্বল্প। কোন শিক্ষার্থী যদি ভার্সিটিতে পেমেন্ট করতে না পারে আর আমি যদি আমার মেধা দিয়ে তাঁর জন্য ভার্সিটি অথরিটি থেকে কোন সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে হেল্প করতে পারি,এইটুকু হয়তো দেশের জন্য অনেক কিছু।

নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে দিয়েছে। স্টুডেন্টস সাপোর্ট লোন তাঁর অন্যতম। আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমার ছাত্রছাত্রীরা। ছাত্রছাত্রীরা মানুষ হয়ে উন্নতি করলে সেটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয় হবে।

ছাত্রছাত্রীদের সাথে হাতে হাত রেখে দেশের অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে তখনই দেশ এগিয়ে যাবে। আমি একজন শিক্ষক হিসেবে তরুন সমাজের কাছে একটাই দাবী। আপনাদের উচিত শিক্ষককে যথাযথ সম্মান দেওয়া। আমরা অবশ্যই মডার্ণ ও স্মার্ট হবো কিন্তু স্বাধীনচেতা বা স্বেচ্ছাচারিতা করবো না।

কাকে কতোটুকু সম্মান দিতে হবে,এটা জানতে হবে এবং ছোটদের সবসময় স্নেহ করতে হবে। কাউকে কষ্ট দিয়ে কথা বলার মতো কষ্টকর জিনিস পৃথিবীতে আর কিছু নেই। মানুষের সবচেয়ে বড় অস্ত্র তাঁর হাসি;আমি হাসি দিয়ে সারাবিশ্ব জয় করতে চাই। কারন, হাসিমুখ মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।

আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন ফেইজবুক পেইজে এখানে ক্লিক করে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
সকল অধিকার সংরক্ষিত © দৈনিক বাংলার ধূমকেতু ২০২১